রবিবার , ৯ই আগস্ট, ২০২০ ইং , বাংলা: ২৫শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ , হিজরি: ১৭ই জিলহজ্জ, ১৪৪১ হিজরী

ইন্দুরকানী শিক্ষকের স্ত্রীকে হত্যা |দুই যুবলীগ নেতা গ্রেফতার 

ইন্দুরকানী শিক্ষকের স্ত্রীকে হত্যা |দুই যুবলীগ নেতা গ্রেফতার 

ইন্দুরকানী (পিরোজপুর) প্রতিনিধি || ইন্দুরকানীতে এক শিক্ষকের স্ত্রীকে সন্ত্রাসীরা দিনদুপু পিটিয়ে হত্যা করে পালিয়ে যায়। প্রভাবশালীদের চাপে অপমৃত্যু মামলার তিন দিন পর হত্যা মামলা । হত্যা কান্ডের ঘটনায় স্থানীয় দুই যুবলীগ নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মরাদেহ উদ্ভার করে ইন্দুরকানী থানা পুলিশ একটি অপমৃত্যু মামলা করে লাশ ময়না তদন্তে পাঠালে প্রাথমিক ভাবে ডাক্তারী পরীক্ষায় তাকে পিটিয়ে হত্যা করেছে বলে জানানো হয়।
গত সোমবার উপজেলার চরণী পত্তাশী এলাকায় এ ঘটনা ঘটলেও পুলিশের চোখে হত্যাকান্ড ধরা পড়ে নি। তবে মরদেহের ডাক্তারী পরীক্ষার পর বুধবার রাতে পুলিশ হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে স্থানীয় চরণী পত্তাশী ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি অনিমেষ হালদার (৩৫) ও সাংগঠনিক সম্পাদক আলআমিন বাবু (২২) কে গ্রেফতার করে। আল আমিন বাবু পত্তাশী ইউনিয়নের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য ত্সলিমা আকতারের ছেলে।
অবশেষে তিন দিন পর বৃহস্পতিবার শিক্ষক মধুসুধন হালদার পুনরায় বাদী হয়ে তার স্ত্রী গোলাপী রাণী হত্যার অভিযোগ ইন্দুরকানী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করে।
জানা যায় , সোমবার বিকালে উপজেলার চরণী পত্তাশী গ্রামের সাবেক বেসরকারী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মধুসূদন হালদার স্ত্রী গোলাপী রাণী (৬৫) কে ঘরে একা রেখে পাশ^বর্তী পত্তাশী বাজারে বাজার করতে যায়। এ সময় ওই ওয়ার্ডের যুবলীগ সভাপতি মনমথ হালদারের ছেলে অনিমেষ হালদার ও মহিলা মেম্বর তাসলিমা আকতারের ছেলে ওয়ার্ড যুবলীগের সংগঠনিক সম্পাদক আল আমিন বাবু সহ তাদের সহযোগীরা ঘরে ঢুকে তাকে পিটিয়ে হত্যা করে। এবং তার সাথে থাকা স্বর্নের চেইন ও দুটি ড্রয়ার ভেঙ্গে নগদ টাকা ও কাগজপত্র নিয়ে পালিয়ে যায়।
হত্যাকান্ডের ঘটনাকে ধামাচাপা দেয়ার জন্য স্থনীয় প্রবাবশালীরা নিহতের স্বামী মধুসূধন কে চাপ দিয়ে ভুল বুঝিয়ে ব্রেইন ষ্টোকে মারা গেছে বলে থানা পুলিশ অপমৃত্যু মামলা করেন। মরাদেহ ডাক্তারী পরীক্ষায় বের আসে বেইন ষ্টোক নয় পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

মধুসূধন হালদার জানান, আমার স্ত্রীর মাথায় আঘাত ও তার সাথে থাকা স্বর্নের চেইন ও স্বর্ণের দুল সহ কয়েকটি ড্রয়ারের তালা ভাঙ্গা দেখে ধারণা করা হচ্ছে দূবৃত্তদের চিনে ফেলায় তাকে পিটিয়ে হত্যা করেছে।প্রথমে আমাকে ভুল বুঝানো হয়েছে।

ইন্দুরকানী থানা ওসি তদন্ত মোঃ মাহবুবুর রহমান জানান, স্কুল শিক্ষকের স্ত্রীকে হত্যার ঘটনায় প্রথমে অপমৃত্যু মামলা পরে ডাক্তারী পরীক্ষায় হত্যা কান্ড নিশ্চিত হয়ে তিন দিন পর বৃহস্পতিবার হত্যা মামলা করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ দুইজন কে গ্রেফতার করা হয়েছে। মামলাার তদন্ত চলছে।

এমন আরো খবর:

error: লেখা সংরক্ষিত!