রবিবার , ১৩ই জুন, ২০২১ ইং , বাংলা: ৩০শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ , হিজরি: ১লা জিলক্বদ, ১৪৪২ হিজরী
শিরোনাম

ফার্মেসি কেবল একটি ব্যবসাই নয় এটা একটি সেবাও

ফার্মেসি কেবল একটি ব্যবসাই নয় এটা একটি সেবাও

নেছারাবাদে দীর্ঘ ষাট বছর ধরে ফার্মেসী ব্যবসায় নিরলস সেবা দিয়ে যাচ্ছেন নির্মল বাবু
মোঃ হাবিবুল্লাহ-নেছারাবাদ | ফার্মেসি ব্যবসা এমনি একটি পেশা যেটা কেবল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান মনে করলে চলবেনা। এটা একটি সেবামুলক প্রতিষ্ঠানও। রোগশোক মানুষকে আগাম জানান দিয়ে আসেনা। তদ্রুপ প্রয়োজন ব্যাপারটাও এমন একটি বিষয় দরকারের সময় যা না পেলে তা কোন কাজেই আসেনা। তখন সে যদি বড় কোন ধনাঢ্যবান ব্যক্তিও হয় তারপরও সে হয়ে পড়ে অসহায়। তাই মানুষের প্রয়োজনে দীর্ঘ ষাট বছর ধরে ঔষধের দোকান খুলে সেবা দিয়ে যাচ্ছি। কথাগুলো বলছিলেন, নেছারাবাদ উপজেলার স্বরূপকাঠি বাজারের সুপারিপট্টির কাছে অবস্থিত আমিনা ফার্মেসির দোকানদার নির্মল চন্দ্র মিস্ত্রী(৮২)। স্থানীয় সাধারন মানুষদের মধ্যে তাকে আবার অনেকেই সম্বোধন করে গরিবের ডাক্তার বলে। এ গরীবের ডাক্তারের বাড়ী উপজেলার সমেদকাঠি ইউনিয়নের লক্ষনকাঠি গ্রামে। নির্মল বাবু জীবনের ষাটটি বছর ধরে এ পেশায় জড়িত। ঝড়,বৃষ্টি বাদল সহ প্রাকৃতিক বৈরী আবহাওয়া যতই থাকুক তার ঔষধের দোকান থাকে চব্বিশ ঘন্টাই খোলা। তার বাড়ী জমি জিরাত থাকলেও রাতে তিনি বাড়ীতে থাকেন না। যদি কারো রাত বিরাতে ঔষধের কারো কোন দরকারি ঐষধ প্রয়োজন হয়।ন তাহলে ওই ব্যক্তি যাবেন কোথায়?
যদিও আইনঅনুযায়ি ডাক্তারি কোন প্রেসক্রিপসন ছাড়া কোন ঔষধ বিক্রি আইনত দন্ডনীয়। তবে স্থানীয় শিক্ষিত সচেতনজনের ভাষায় তাকে কোন এমবি বি এস ডাক্তার বলে সম্বোধন না করা গেলেও আজকাল গ্রামে যেসব বাণিজ্যিক আরএমপি চিকিৎসক আছেন, তাদের সবার উপরে গরীবের ডাক্তার নির্মল চন্দ্র মিস্ত্রিকে স্থান দিতেই হয়। কারণ, তার কাছে যেসকল খেটে খাওয়া মানুষেরা জ¦র,সর্দি,মাথা ব্যাথা, ডাইরিয়াসহ ছোটখাট রোগ নিয়ে আসেন। তাদের রোগের কথা শুনে ওই ডাক্তার বাবু সামর্থ্যর মধ্যে প্রয়োজনীয় ঔষধ দিয়ে চিকিৎসার কোন ফি রাখেননা। আর চব্বিশ ঘন্টাই থাকেন দোকানে। কার কখন ঔষধের প্রয়োজন হয়ে পড়ে। এজন্য রাতেও তিনি ঘুমান ওই ফার্মেসিতে।
স্থানীয় সাংবাদিক মাসুদুল আলম অপু বলেন, আজও ভুলতে পারিনা সেই ভয়াবহ রাতের কথা। “আমার বাবা মুমুর্ষ অবস্থায় বিছানায় শায়িত ছিলেন। আনুমানিক রাত দুইটার সময় ডাক্তার বললেন এখনি আপনার বাবাকে স্যালাইন পুষ করতে হবে। তখন র্দুচিন্তায় পড়ে গেলাম। এই রাতে কোথায় স্যালাইন পাওয়া যাবে। তখন পাশে থাকা কয়েকজন মুরব্বিরা বললেন, এই রাতে কোন ফার্মেসী খোলা না থাকলেও নির্মল বাবুর দোকানে গেলেই ঔষধ পাওয়া যাবে। কারণ, মানুষের প্রয়োজনেই সে ঘর ছেড়ে ওই ফার্মেসিতেই ঘুমায় আর ওখানেই থাকে। ফার্মেসী যে একটি কেবল ব্যবসা নয় সেবাও তা তিনি সবাইকে দেখিয়ে দিচ্ছেন।”
স্বরূপকাঠি পৌরসভার একাধিকবার নির্বাচিত ৭নং ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলন মো. ইুরুল ইসলাম বলেন, “আমার কাছে নির্মল বাবু একজন অত্যন্ত ভাল মনের মানুষ। কেননা গ্রামের কোন মানুষের যদি গভীর রাতে একটা পাচ টাকা দামের ট্যাবলেটেরও প্রয়োজন পড়ে তার কাছে গেলে সে ঘুম থেকে উঠে ট্যাবলেটটা দিবেন। এজন্য তিনি ঔষধের বেশি দামও রাখেন না।”
এভাবে কেবল সাংবাদিক,কাউন্সিলরই নন। এলাকার সর্বসাধারনের কাছে ওই গরীবের ডাক্তার নির্মল বাব্ ুএকটি আস্থার নাম বলে অধিকাংশ লোকই মত প্রকাশ করেন।
এ ব্যপারে ফার্মেসি দোকানদার নির্মল বাবু বলেন, “জানিনা কতদূর মানুষের উপকার করতে পেরেছি। তবে এলাকার এমনকি স্বরূপকাঠি অধিকাংশ মানুষের ভালবাসা আমাকে এ কাজে উৎসাহ যুগিয়েছে। যতদিন বেঁচে থাকবো যেন মানুষের উপকার করে যেতে পারি”।

এমন আরো খবর:

error: লেখা সংরক্ষিত!