শনিবার , ৩১শে অক্টোবর, ২০২০ ইং , বাংলা: ১৬ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ , হিজরি: ১৩ই রবিউল-আউয়াল, ১৪৪২ হিজরী

ভাণ্ডারিয়া পৌর শহরে অর্ধশত পরিবার পানিবন্দি | মশার উপদ্রপ বৃদ্ধি!

ভাণ্ডারিয়া পৌর শহরে অর্ধশত পরিবার পানিবন্দি | মশার উপদ্রপ বৃদ্ধি!

মামুন হোসেন, ভাণ্ডারিয়া || পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া পৌর সভার খোদ শহরে ৫০ পরিবার ও লঞ্চঘাট পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ফলে পানিবন্দি হয়ে মানুষ হাটু পানিতে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। দীর্ঘদিন জমে থাকা পানিতে বিষক্ত মশার উপদ্রপ বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়াও অপরিস্কার নোংরা দূর্গন্ধযুক্ত পানি পায়ে লাগলে চুলকানিসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন অনেকে।
আজ সোমবার সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়, ভাণ্ডারিয়া লঞ্চগাট স্ট্যান্ড সহ পৌর শহর এলাকার মুক্তিযোদ্ধা ভবন সংলগ্ন রিজার্ভ পুকুর পাড়ের মহল্লা, কলেজ রোডস্থ খান সাহেব আঃ মজিদ কির্ন্ডার গার্ডেন মহল্লা ও পুরাতন স্টিমারঘাট সংলগ্ন মিয়াবাড়ী –লাহারী বাড়ী মহল্লায় কোথাও কোথাও জোয়ারের পানি ও বর্ষার পানিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে হাটু পানিতে চলাচল করতে হচ্ছে। এতে স্থানীয় নাগরিক ও ভাড়াটিয়া বাসিন্দার প্রায় ৫০ পরিবার পানি বন্দি হয়ে পরেছে । এছাড়া, ভাণ্ডারিয়া লঞ্চগাট স্ট্যান্ড জলমগ্ন হয়ে পড়ায় এখানে গাড়ী পার্কিং করার সুবিদা ব্যহত হচ্ছে । অপর দিকে ঢাকা গামী যাত্রীরা সড়কে জমে থাকা অপরিস্কার নোংরা দূর্গন্ধযুক্ত পানি ওপর দিয়ে যাতায়াতের সময়ও হোঁচট খেয়ে পড়ে প্রতিনিয়ত কেউনা কেউ আহত হচ্ছে। এদিকে দীর্ঘদিন জমে থাকা পানিতে বিষক্ত মশার উপদ্রপ বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে পৌরবাসীরা দু’মুখি সমস্যায় পড়ে অস্বাস্থ্যকার জীবন যাপন করছে এবং আতংকে রয়েছে। অপরিস্কার নোংরা দূর্গন্ধযুক্ত পানি পায়ে লাগলে চুলকানিসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়েছেন অনেকে। এছাড়াও পৌর বাসিন্দারা রাতে ঘুমাতে ভয় পাচ্ছে, কারন পানিতে সাপ, বিচ্ছু সহ রয়েছে বিভিন্ন পোকা মাকড়। রিজার্ভ পুকুর পাড়ের মহল্লার ভাড়াটিয়া আল আরাফা ইসলামী ব্যাংক ম্যানেজার ও ব্রাক ব্যাংক এরিয়া ম্যানেজার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আর সহ্য হচ্ছেনা এগুলো দেখার কি কেহ নেই। এ পানিবন্দি মহল্লায় বসবাসকারী মানুষ জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে কোন রকম বেড় হচ্ছেনা, বেড় হলেও যখন তখন ঘরে ফিরছেন না। মহল্লায় বসবাসকারী ২০ পরিবারের মানুষ তাদের প্রয়োজনীয় কাজ শেষ করে রাতে জুতা হাতে কাপড় ভিজিয়ে বাসায় ঢুকে পড়েন। খান সাহেব আঃ মজিদ কির্ন্ডার গার্ডেন মহল্লার বাসিন্দা মো. কামরুজ্জামান খান বলেন, এ সড়কে একটি স্কুলসহ প্রায় ২০/২৫ টি পরিবার বসবাস করে। সড়কে জোয়ার ও বর্ষার পানি জমে থাকে মাসের পর মাস। কিন্তু নোংরা পানি পায়ে লাগিয়ে স্কুলের শত-শত শিশু থেকে শুরু করে আমাদের হাটুজল পানির মধ্যদিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়েত করতে হচ্ছে। পানি নেমে যাওয়ার কোন ড্রেনেস ব্যবস্থাও নেই। ইদানিং মশার উপদ্রপও বৃদ্ধি পেয়েছে। অপরদিকে একই সমস্যায় আছে পুরাতন স্টিমারঘাট সংলগ্ন মিয়াবাড়ী মহল্লার বাসিন্দারও। লঞ্চগাট স্ট্যান্ডের দু,পারের দোকানী মোস্তফা ও রিপন হাওলাদার জানান, সড়কের স্ট্যান্ডে জমে থাকা অপরিস্কার নোংরা দূর্গন্ধযুক্ত পানির কারনে গাড়ী পার্কিং বন্ধ। এখান দিয়ে যাত্রীরা যাতায়াতের সময় হোচট খেয়ে প্রতিনিয়ত কেউনা কেউ আহত হচ্ছে। দীর্ঘদিন জমে থাকা পানির ফলে আমরা সড়ক দিয়ে বিচ্ছিন্ন রয়েছি। পানির মধ্যে ইট দিয়ে কোন মতে যাতায়েত করছি। ফলে বেচাকিনা হচ্ছেনা। ভুক্তভোগী পৌরবাসী ও পথচারীরা যথাযত কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি কামনা করে সড়কের জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি এবং সড়কের ড্রেনেস ব্যবস্থা ও সড়ক সংস্কারের দাবী জানান। উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক মো: নাজমুল আলম বিষয়টি সম্পর্কে যৌথভাবে জানান, পৌর সহকারী প্রকৌশলী মো: নূরুল আলমকে প্রকল্প তৈরি করার নির্দেশনা দিয়েছি দ্রুত সংস্কার করা হবে।

এমন আরো খবর:

error: লেখা সংরক্ষিত!