রবিবার , ৯ই আগস্ট, ২০২০ ইং , বাংলা: ২৫শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ , হিজরি: ১৭ই জিলহজ্জ, ১৪৪১ হিজরী

“প্যাডে নাই ভাত মোগো আবার ঈদ” ভাঙ্গন কবলিত ৩ হাজার পরিবারের আকুতি

“প্যাডে নাই ভাত মোগো আবার ঈদ” ভাঙ্গন কবলিত ৩ হাজার পরিবারের আকুতি

এম,আহসানুল ছগির, ইন্দুরকানী (পিরোজপুর) || “প্যাডে নাই ভাত মোগো আবার কোরবানীর ঈদ” আমপানের বইন্যায় মোগো ইট্টুর লইগ্যা ভাসাইয় লইয়া যায় নাই আল্লায় রহম করেছে। ১০ কেজি চাউল দিলেও কেডা দেবে আমাগো কোরবাণীর গোস্ত। একথাগুলো বলছিল ঘুর্নিঝড় আম্পানের তান্ডবের মধ্যে লড়াই করে বেঁচে থাকা পিরোজপুরের ইন্দুরকানী উপজেলার সাঈদখালী গ্রামের কচা নদীরতীরবর্তী বেড়ী বাঁধের বাইরে থাকা খলিলুর রহমানের স্ত্রী তাসলিমা বেগম।
শুধু তাসলিমাই নয় বেড়ী বাঁধের বাইরে থাকা সাঈদখালী গ্রামের হতদরিদ্র শহিদুল ইসলাম, আনোয়ার হোসেন, শাহজাহান সহ অনেকেই জানান, বন্যা ও করোনা ভাইরাসের কারণে এবছর অধিকাংশ মানুষই কোরবানী দিবে না। তাই কোরবাণীর গোস্ত ভাগ্যে জুটবে কিনা জানিনা।
উপজেলার কচা নদীর তীরবর্তী আম্ফানে বেড়ীবাঁধ বিলীন হওয়া টগড়া গ্রামের বাসিন্দা জেলে বাবুল, ছিদ্দিকুর রহমান হাওলাদার, আঃ রব জানান, বইন্যায় আমাদের বেড়ী বাঁধ বিলীন হয়ে গেছে ঝড় বৃষ্টি পানির সাথে লড়াই করে বেচে আছি। কোরবানী দেয়ার মত আমাদের সমর্থ নাই। তাই কোরবানীর ঈদের আনন্দ নদী তীরবর্তীমানুষের মাঝে নাই।
এ উপজেলার সাঈদখালী গুচ্ছ গ্রাম, খোলপটুয়া জাপানি ব্রাক, চাড়াখালী গুচ্ছগ্রাম, পাড়েরহাট আবাসন প্রকল্প সহ নদীতীরবর্তী প্রায় ৩ হাজার পরিবারের মাঝে নেই কোরবানীর ঈদের কোন আমেজ।
কচানদীর তীরবর্তী টগড়া ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আঃ রাজ্জাক জানান, টগড়া গ্রামের কচানদীর তীরবর্তী বেড়ীবাঁধ সঠিকভাবে না করায় পানির স্রোতে বেড়ী বাধ বিলীন হয়ে যাওয়ায় ওই গ্রামের বাড়ী ঘরের বেশী ক্ষতি হয়েছে। তাই নদী তীরবর্তী মানুষের মাঝে কোরবাণীর ্ঈদের কোন আনন্দ নেই।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ শফিকুল ইসলাম জানান, এ উপজেলায় কোরবানীর ঈদ উপলক্ষে নিস্ন আয়ের তিনহাজার দুইশজনকে ১০ কেজি করে ৩২ মে. টন চাল দেয়া হয়েছে।

এমন আরো খবর:

error: লেখা সংরক্ষিত!