শনিবার , ২৮শে মার্চ, ২০২০ ইং , বাংলা: ১৪ই চৈত্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ , হিজরি: ৩রা শাবান, ১৪৪১ হিজরী
শিরোনাম

বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বাস্তবায়নে ঢাকা ১০ আসনে মনোনয়ন চান ড.আব্দুল ওয়াদুদ

বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বাস্তবায়নে ঢাকা ১০ আসনে মনোনয়ন চান ড.আব্দুল ওয়াদুদ

অনলঅইন ডেস্ক || বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বাস্তবায়নে ঢাকা ১০ আসনে মনোনয়ন চান ড.আব্দুল ওয়িাদুদ।তিনি মানুষের কল্যনের জন্য রাজনীতি করতে চান।জনগণের আশা আকাঙ্খার প্রতিফলন ঘটাতে চান।তিনি পিরোজপুর টাইমসকে বলেন সুস্থ সুন্দর রাজনীতির জন্য সৃজনশীল ব্যক্তির প্রোয়োজন। প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে অতীতে ও তার পাশে ছিলাম এখনও আছি ভবিষ্যতেও থাকব।

এ দেশের সফল আলোকিত কৃতি সন্তান ড.ওয়দিুদ। গনতন্ত্র উদ্ধারে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী সাথে রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রামে আব্দুল ওয়াদুদ ছিলেন এক লড়াকু সৈনিক । ১৯৯০-এর গণ-আন্দোলনে তিনি সম্মুখ থেকে ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন ।উপজেলা নির্বাচন রুখতে ও গনতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে ১৯৮৪ সালেরর ২৮ ফেব্রুয়ারী ছাত্রনেতা সেলিম-দেলোয়ার পুলিশের ট্রাকের তলায়  পিষ্ট হয়ে শহীদ হন।

শহীদ দেলোয়ার  ও  ড.ওয়াদুদ জহুরুল হক হলের  একই কক্ষের আবাসিক ছাত্র ছিলেন । ওই মিছিলে আহত হয়ে ওয়াদুদ মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসেন ।১৯৮৬ সালে ওয়াদুদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রিয় ছাত্র-সংসদ নির্বাচনে (ডাকসু ) ক্রীড়া সম্পাদক পদে অংশগ্রহন করেন  ও ছাত্রলীগের দুঃসময়ে কান্ডারির ভূমিকা পালন করেন।

Untitled-5জন্ম গ্রহন করেন পিরোজপুর জেলার ভান্ডারিয়া থানার উত্তর শিয়ালকাঠি গ্রামে । বিশ্বব্যাপি সমদিৃত “ফিকামলি” তত্বের জনক তিনি এবং বঙ্গবন্ধুর আদর্শের একনিষ্ট সৈনিক । বহুমুখি প্রতিভার অধিকারী ড. আব্দুল ওয়াদুদ একজন শিক্ষাবিদ, লেখক গবেষক,রাজনৈতিক বিশ্লেষক,ক্রীড়া সংগঠক,ব্যায়াম ও ওয়াইল্ড লাইফ বিশেষজ্ঞ ।তার পূর্বপুরুষ চাখারের জমিদার ছিলেন । স্কুল ও কলেজ কেটেছে তার প্রিয় গ্রামে । ভান্ডারিয়া হাই-এটাষ্ট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তাঁর স্কুল জীবন শুরু হয় । শিশুকাল থেকে ডানপিঠে স্বভাবের ওয়াদুদকে তার বাবা আরো দুইটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্থানান্তর করেন । উত্তর তারাবুনিয়া বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (লেহাজের কলগাট স্কুল ) এবং উত্তর ভান্ডারিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (কাজী বাড়ি স্কুল ) । এর পর ভান্ডারিয়া বিহারী উচ্চ বিদ্যালয়ে ও ভান্ডারিয়া কলেজে লেখাপড়া করেন । তার পিতা অধ্যাপক আব্দুল হালিম উকিল ভান্ডারিয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ ছিলেন । তাঁর পিতা  1962 সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দর্শনশাস্ত্রে এম.এ পাশ করেন । 1962-এর শিক্ষা আন্দোলন ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বঙ্গবন্ধুকে বহিস্কার করার প্রতিবাদে আব্দুল হালিম উকিল বিশাল ছাত্র মিছিলে অংশগ্রহন করেন । ছাত্রাবস্থায় বঙ্গবন্ধুর সাথে আন্দোলন ও সংগ্রাম নিয়ে অনেকবার তাঁর কথা বলার সুযোগ হয়েছে । দক্ষিন বাংলার শিক্ষা বিস্তারে ড.আব্দুল ওয়াদুদের পিতা অধ্যাপক আব্দুল হালিম উকিলের অবদান অবিস্মরনীয় । নানা প্রতিকুলতার মাঝে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তিনি ভান্ডারিয়া বিহারী উচ্চ বিদ্যালয় ও কাউখালী সহ  অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা কার্যাক্রম  অব্যাহত রাখেন । তিনি তাঁর ছাত্র ও অভিভাবকদের মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহন করতে অনুপ্রানিত করেছিলেন । মুক্তিযুদ্ধচলাকালীন তাঁর বসত-ঘরটি ও কাচারি-ঘরটি মুক্তিযুদ্ধাদের নিরাপদ আশ্রয়কেদ্র হিসাবে ব্যাবহৃত হতো । পিরোজপুর জেলার ভান্ডারিয়া,কাউখালি । এবং ঝালকাঠি জেলার রাজাপুর ও কাঠালিয়া থানার অধিকংশ মুক্তিযোদ্ধা হালিম স্যারের ছাত্র ছিলেন । লেখাপড়ায় অন্য বিষয়ে অগ্রহ থাকলেও পিতার একান্ত ইচ্ছা অনুযায়ী ওয়াদুদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজিতে অনার্স নিয়ে পড়াশোনা করেন । তিনি অনার্স এবং এম.এ উভয়  শ্রেনিতে দ্বিতীয় স্থান লাভ করেন । এরপর দিল্লির জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি পি এইচ.ডি ডিগ্রি অর্জন করেন । তিনি প্রথিতযশা শিক্ষাবিদ ড. খান সারওয়ার মুরশিদ,জাতীয় অধ্যাপক কবির চৌদুরী,প্রফেসর অ্যামিরেটাস সিরাজুল ইসলাম চৌদুরী,প্রফেসর শামছুদ্দোহার সরাসরি ছাত্র । গবেষনা কাজের জন্য তিনি কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়,বেনারস বিশ্ববিদ্যালয়,রাচি বিশ্ববিদ্যালয়,বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বনামধন্য শিক্ষাবিদগনের রিসার্চ এসোসিয়েট হিসাবে সফলভাবে কাজ করেন । আব্দুল ওয়াদুদ অল ইন্ডিয়া রিসার্স ইনিষ্টিটিউট অব ইয়োগা থেকে ইয়োগা ও পাইলেটস-এর উপর উপর উচ্চতর প্রশিক্ষন শেষে ব্যায়ামাচার্য্য উপাধিতে ভূষিত হন । তিনি জাপানিজ মার্শার-আর্ট-এ (সোতোকান কারাটে ) একজন ব্ল্যাকবেল্টধারী । ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে তিনি ব্ল্যাকবেল্ট ওয়াদুদ নামে বহুল পরিচিত ছিলেন । স্কুল ও কলেজ জীরন হতেই ওয়াদুদ বাংলাদেশ ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনার সময় তিনি ছাত্রলীগের নেতৃত্বে চলে আসেন ।তিনি তৎকালীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক,বিশ্ববিদ্যায়ের সাংগঠনিক সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ছিলেন ।

গনতন্ত্র উদ্ধারে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী সাথে রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রামে আব্দুল ওয়াদুদ ছিলেন এক লড়াকু সৈনিক । 1990-এর গন-আন্দোলনে তিনি সম্মুখ থেকে ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন ।উপজেলা নির্বাচন রুখতে ও গনতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে 1984 সালেরর 28 ফেব্রুয়ারী ছাত্রনেতা সেলিম-দেলোয়ার পুলিশের ট্রাকের তলায়  পিষ্ট হয়ে শহীদ হন । শহীদ দেলোয়ার  ও  ড.ওয়াদুদ জহুরুল হক হলের  একই কক্ষের আবাসিক ছাত্র ছিলেন । ওই মিছিলে আহত হয়ে ওয়াদুদ মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসেন ।19886 সালে ওয়াদুদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রিয় ছাত্র-সংসদ নির্বাচনে (ডাকসু ) ক্রীড়া সম্পাদক পদে অংশগ্রহন করেন  ও ছাত্রলীগের দুঃসময়ে কান্ডারির ভূমিকা পালন করেন । কর্মজীবনের শুরুতে ওয়াদুদ মহান শিক্ষকতা পেশার সাথে জড়িত ছিলেন । তিনি প্রায় 18 টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন । এর মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ,নর্থ-সাউথ ইউনিভার্সিটি, কুইন্স ইউনিভার্সিটি, ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, ঢাকা সিটি কলেজ, ঢাকা আইডিয়াল কলেজ উল্লেখযোগ্য । তিনি বাংলাদেশ হেলথ কেয়ারের পরিচালক ছিলেন । তিনি 90 দশকে বাংলাদেশ টেলিভিশনে ফিজিক্যাল ইনষ্ট্রাক্টর হিসাবে কাজ করেন ।

ড.আব্দুল ওয়াদুদ ফিকামলি সেন্টার এবং প্লাটিনাম জিমের প্রতিষ্ঠাতা । তিনি প্রতিটি জেলা ও বিভাগীয় শহরে উক্ত প্রতিষ্ঠানের শাখা খোলার কাজ ইতিমধ্যে শুরু করেছেন । সুস্থ্যতা ও ফিটনেস-এর জন্য ড.ওয়াদুদ-এর উদ্ভাবিত ফিকামলির তত্ত্ব শুধু দেশে নয়, আন্তর্জাতিকভাবে সমাদৃত । তিনি যুব সমাজকে মাদক, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের হাত থকে রক্ষা করার জন্য জিম ও ফিকামলি সেন্টার প্রতিষ্ঠা করেন । তার শ্লোগান “সুস্থ সবল থাকার জন্য মাঠে আসো, জিমে যাও, মাদক থেকে মুক্তি পাও।”

যুব সমাজকে বিভিন্ন অপরাধ ও সন্ত্রাসী কার্যাকলাপ থেকে ফিরিয়ে আনার জন্য তাঁর এই মহতি উদ্যোগ সর্বমহলে ইতিমধ্যে প্রশংসিত হয়েছে । লালন গীতি ও শাহ আব্দুল করিমের গানের ভক্ত তিনি । ড.ওয়াদুদ একজন প্রখ্যাত লেখক ও গবেষক । তাঁর গবেষনাধর্মী লেখা ও বইয়ের সংখ্যা প্রায় চল্লিশটি । তিনি একজন ওয়াইল্ড লাইফ বিশেষজ্ঞ । বাংলাদেশের আবহাওয়া ও তাপমাত্রায় বিদেশি পশু-পাখির সফল ব্রিডিং কার্যাক্রমের তিনি পথ প্রদর্শক । তার গভেষনাকে কাজে লাগিয়ে  এদেশের বেকার যুবকেরা বিদেশি পাখি ব্রিডিং-িএর মাধ্যমে কর্ম-সংস্থানের ব্যবস্থা করেছে । ড.ওয়াদুদের গভেষনার বিষয় মুলত মুক্তিযুদ্ধ, সুন্দরবন, রয়েল বেঙ্গল টাইগার, পাখি-ব্যায়াম-মেডিটেশন । ড.ওয়াদুদ বিভিন্ন সামাজিক প্রতিষ্ঠান ও জনহিতকর কার্যাক্রমের সাথে জড়িত । তিনি বাংলাদেশ ওয়াইল্ড লাইফ কনজারভেশন অ্যান্ড রিয়ারিং এসোসিয়েশনের মহাসচিব । তিনি এদেশের একজন খ্যাতিমান বাঘ-বিশেষজ্ঞ । বাঘ বা বাঘের বাচ্চা অসুস্থ হলে  সরকার তাঁর পরামর্শ  ও সেবা গ্রহন করে থাকে । 2012 সালে ঢাকার শ্যামলী থেকে উদ্ধারকৃত তিনটি রয়েল বেঙ্গল টাইগারের বাচ্চা আদালতের নির্দেশে ড.ওয়াদুদের মিনি চিরিয়াখানায় চিকিৎসা ও সেবার দায়িত্ব দেওয়া হয় । বাংলাদেশে ড.ওয়াদুদ পাখির রাজা হিসাবে সর্বমহলে পরিচিত, পাখির প্রতি তাঁর ভালোবাসা সর্বজনবিদিত । 2010 সালে পাখির সংসার রক্ষা বিষয়ক তাঁর দায়েরকৃত মামলা শুধু বাংলাদেশেই নয় বিশ্বে সর্বপ্রথম এক বিরল ঘটনা । তাঁর বাঘ-বিধবা কর্মসূচি দক্ষিন বাংলায় বাঘের কামড়ে নিহতদের স্ত্রীদের জীবনমান  উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ন অবদান রাখছে । ড.আব্দুল ওয়াদুদ একজন সুদক্ষ ক্রীড়া সংঘঠক । রোহিঙ্গা মুসলমানদের জন্য বিশ্ব-জনমত গড়ে তুলতে ও মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি করতে বিশ্বের খ্যাতিমান ফুটবলারদের নিয়ে ড.ওয়াদুদ দেশে ও দেশের বাহিরে ছুটে বেড়াচ্ছেন এবং তাদের আর্থিক সহযোগিতা দিযে যাচ্ছেন ।

ড.ওয়াদুদ বাংলাদেশ ফ্রেশ ফ্রুটস কনজুমার এসোসিয়েশনের সভাপতি । ফল রক্ষায় তাঁর দশ দফা দাবির মধ্যে নয় দফা ইতোমধ্যে সরকার মেনে নিয়েছে । ড.ওয়াদুদের প্রতিষ্ঠিত  “খান বাহাদুর আব্দুর হাকিম স্মৃতি লাইব্রেরী” একটি সমৃদ্ধ গবেষনাধর্মী লাইব্রেরী ।

জন্মস্থান ভান্ডারিয়া থানার উত্তর শিয়ালকাঠি গ্রামে প্রতিষ্ঠিত নিজ বাড়ি “রিমা ডেল” প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও দুর্বিপাকের সময় এলাকাবাসীর আশ্রয়কেন্দ্র হিসাবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে । 2010 সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় টি.এস.সিতে ছাত্র-শিক্ষকদের এক সমাবেশে সর্বপ্রথম তিনি বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাকে “উন্নয়নের নেত্রী” উপাধিতে ভূষিত করেন । 21 আগষ্ট গ্রেনেট হামলা থেকে অল্পের জন্য বেঁচে যান ড.ওয়াদুদ । এক এগারোর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় জননেত্রী শেখ হাসিনার মুক্তি আন্দোলনের অগ্রসৈনিক ছিলেন ।  পিরোজপুর-2 (ভান্ডরিয়া-কাউখালী-ইন্দুরকানী )আসনের আওয়ামিলীগ এর মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন ।

ব্যাক্তিগত  জীবনে ড.ওয়াদুদ সাবেক অডিটর ইউসুফুজ্জামান সিদ্দিকির কন্যা রিমা জেবকে বিবাহ করেন

 

এমন আরো খবর: