শনিবার , ৩১শে অক্টোবর, ২০২০ ইং , বাংলা: ১৬ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ , হিজরি: ১৩ই রবিউল-আউয়াল, ১৪৪২ হিজরী

মালয়েশিয়া-বাংলাদেশ সচিব পর্যায়ের বৈঠক

মালয়েশিয়া-বাংলাদেশ সচিব পর্যায়ের বৈঠক

বিশেষ প্রতিনিধি,মালয়েশিয়া | আশায় প্রহর গুনছে অবৈধরা। সংকট উত্তরনে মালয়েশিয়ায় ২৯-৩০ মে দুই দেশের সচিব পর্যায়ে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। একটি সূত্র জানায়, জি টু জি প্লাস প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগ শুরু হলে একপর্যায়ে সিন্ডিকেট এবং অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে মাহাথির সরকার বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগ স্থগিত করে।

সরকার ঘোষণা দেয় সমগ্র প্রক্রিয়াটি মূল্যায়ন করে একক এবং মানসম্মত প্রক্রিয়া নির্ধারণ করবে। জানা গেছে, অতিরিক্ত অভিবাসন খরচ, কর্মীদের বিভ্রান্ত করা, কাজ ও বেতন সম্পর্কে ভুল ধারণা দেয়া , মধ্য পর্যায়ে দালালি ইত্যাদি বিষয় বিবেচনা করে। এর মধ্যে অবৈধ অভিবাসীদের প্রসঙ্গ প্রাধান্য পায়। এসব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক মানদন্ড অনুযায়ী মালয়েশিয়া মানব পাচার জনিত হুমকির মুখে রয়েছে। এ থেকে উত্তরণের জন্য সরকার লেবার সোর্স কান্ট্রির সহযোগিতা ছেয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিগত দুটি জয়েনট ওয়ার্কিং গ্রুপের সভায় অবৈধ কর্মীদের বিষয় প্রাধান্য পেয়েছে। এছাড়া অবৈধ কর্মীরাও আশায় রয়েছে কোন এক সুন্দর প্রত্যাশায়। আসন্ন ২৯ ও ৩০ মের বৈঠকে অবৈধদের সহজে নিজ দেশে ফিরে যাওয়া বা বৈধ হবার সুযোগ পাবে। এদিকে মালয়েশিয়ার মানব সম্পদ মন্ত্রী কুলেসগারান বলেছেন, সহজ শর্তে কোম্পানি কর্মী প্রতিস্থাপনের সুযোগ পাবে। সংশ্লিষ্টরা আশা করে এ সুযোগ দিলে অনেক অবৈধ কর্মী বৈধ হতে পারবে। তবে সম্প্রতি ইমিগ্রেশনের প্রধানের হুশিয়ারি অবৈধ প্রবাসীদের আতংক বিরাজ করছে। তিনি বলেছেন ঈদের পর ব্যাপক তল্লাশি অভিযান করে বিদেশি কর্মীদের ভিসা চেক করবেন। এতে যাদের ভিসা নেই তারা গ্রেফতার হবেন এবং শাস্তির আওতায় আসবেন। এতে করে কর্মীরাই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে এমন আশঙ্কা করা হচ্ছে।

কুয়ালালামপুরে একটি কন্সট্রাকশন সাইডে কাজ করেন সিলেটের রতন মিয়া। তিনি জানালেন, এ অভিযানের খবর শুনে এখন আতংকে আছেন। “বৈধতার জন্য সব রকম চেষ্টা চালিয়েছি। বৈধতার পার্মিট তো হয়নি বরং উল্টো পুলিশ এখন আমাদের খুঁজছে। আমরা এখন কোথায় যাব, কী করবো? আমরা একটা আতংকের মধ্যে আছি।” তিনি বলেন, অবৈধ শ্রমিকরা ইতিমধ্যেই অনেকে পালিয়ে আছেন। তবে খেয়ে-পরে বেঁচে থাকতে ঝুঁকি নিয়ে তাদের কাজে আসতেই হচ্ছে। উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে সেদেশের সরকারের দেওয়া সুযোগ ইতিমধ্যেই কাজে লাগিয়েছেন। বাকি আনুমানিক ৫০ হাজারের মতো শ্রমিক এই সুযোগ নিতে প্রতারণার শিকার হয়ে এখনো অবৈধ অবস্থায় দেশটিতে রয়েছেন বলে জানিয়েছে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ হাই কমিশন।

এমন আরো খবর:

error: লেখা সংরক্ষিত!